ছয় বিনিয়োগ সংস্থা একীভূত করার সিদ্ধান্ত

ছয় বিনিয়োগ সংস্থা একীভূত করার সিদ্ধান্ত
বিনিয়োগ। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
Advertisement
Advertisement

বিনিয়োগ–সংক্রান্ত কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদার করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে একীভূত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ বেসরকারীকরণে কমিশনভিত্তিক কাঠামোয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক নিয়োগ এবং ধাপে ধাপে দেশের বাইরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্তও অনুমোদন পেয়েছে।

সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

তিনি জানান, ছয় সংস্থাকে একীভূত করার প্রস্তাব আগেই গভর্নিং বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সদস্যদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একীভূতকরণ নীতিগতভাবে রেটিফাই করা হয়েছে। তবে এটি আপাতত নীতিগত সিদ্ধান্ত; বাস্তবায়ন করবে আগামী সরকার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, একীভূতকরণ কীভাবে হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলো—একজন স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কনসালট্যান্ট দিয়ে নতুন অর্গানাইজেশন ডিজাইন করা হবে, যাতে কোনো সংস্থা অতিরিক্ত সুবিধা বা আলাদা ট্রিটমেন্ট না পায়।

আরও পড়ুন

একই ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সরকারি সম্পদ বেসরকারীকরণে কমিশনভিত্তিক কাঠামোয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক নিয়োগের প্রক্রিয়াও অনুমোদিত হয়েছে। এতদিন প্রাইভেটাইজেশন বিডার একটি বড় ম্যান্ডেট হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন বা প্রক্রিয়া ছিল না।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে সাধারণত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক কমিশনভিত্তিক কাঠামোয় এ ধরনের কাজ করে থাকে। সেই পুরো প্রক্রিয়াই বোর্ডে অনুমোদিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।

এ ছাড়া ধাপে ধাপে দেশের বাইরে বিডার অফিস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্তও জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে চীন, এরপর দক্ষিণ কোরিয়া এবং পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো একটি দেশে অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, এসব অফিসের কাঠামো হবে কেপিআই বা পারফরম্যান্স–ভিত্তিক। সংশ্লিষ্টরা যদি বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আনতে পারেন, তাহলে সে অনুযায়ী স্যালারি, কমিশন বা ভ্যারিয়েবল পেমেন্ট পাবেন।

চীনে সম্ভাব্য অফিসের ক্ষেত্রে স্থানীয় চীনা পেশাজীবীদের যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ভাষা ও স্থানীয় বাজার বোঝার যে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশ থেকে কাভার করা সম্ভব নয়, তা ওই অফিসের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ–সংক্রান্ত সেবায় সমন্বয় বাড়তে পারে, দ্বৈততা কমতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এক দরজা ভিত্তিক কাঠামো আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাইভেটাইজেশনে পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে বিনিয়োগ আহরণে ফলাফল–কেন্দ্রিক চাপ তৈরি হতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad