আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। কেন্দ্র দখল, প্রভাব খাটানো ও ভিড় জমানো এগুলো চলবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও জনগণের কাছে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আমাদের হাতেই ভোট নিরাপদ।’
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসির লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, তাদের মধ্যে কোনো ভয়ভীতি যেন কাজ না করে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভোটারদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।’
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি জানান, প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এসব টিম তিন ভাগে কাজ করবে। এরই মধ্যে দুটি টিম মাঠে কাজ করছে, আরেকটি টিম নির্বাচনকালীন চার দিন দায়িত্বে থাকবে।
পোস্টাল ভোট যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি জানান, যার ভোট তাকেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দিতে হবে। স্ক্যানিংয়ে বাদ পড়লে সেই ভোট গণনায় আসবে না।
একই সঙ্গে ইসি জানান, ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে কলম দিয়ে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে। সে জন্য কলমের পরিবর্তে পেন্সিল ব্যবহার করা হবে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশযোগ্য কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেনি।
সভায় চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্যে দেখা যায়, প্রবাসী ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে চাঁদপুর জেলা দেশব্যাপী পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। জেলায় নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৩৬ জন।


