নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কবির হোসেন নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আলাউদ্দিন মুন্সী, মো. ফারুক উদ্দিন রনি, মো. হোসেন এবং মো. তারেক।
বুধবার দুপুরে সুধারাম মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ ( অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মো আরিফ হোসেন এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫ জনের নামে একটি মামলা করে। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এজাহারনামীয় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন,গ্রেপ্তার করা আসামিদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
জানা গেছে, নিহত কবির হোসেন সদর উপজেলা নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাদাতপুর গ্রামের বাসিন্দা। চুরির অভিযোগে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গাছের লাঠি ও কাঠের টুকরা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ঘটনা দেখে তৌহিদের মা কমলা বেগম ছেলেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। হামলাকারীরা তাকেও ধাক্কা দিয়ে মারধর করে জখম করে। একপর্যায়ে বিবাদীরা রশি দিয়ে বাজারের পিলারের সঙ্গে বেঁধে তাকে মারধর করে।
পরে বিকাল ৫টার দিকে হামলাকারীরা গুরুতর আহত তৌহিদকে একটি অটোরিকশায় তুলে মাইজদীর দিকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তৌহিদের পরিবার জানতে পারে তিনি মারা গেছেন। নিয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের একটি ইটের সলিং রাস্তার পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে নিহতের পিঠ, পেট, দুই উরু এবং দুই পায়ের রানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি অটোরিকশা এবং ১০ হাত রশি জব্দ করেছে।


