কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া এক তরুণকে হত্যার অভিযোগে তার চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহতের নাম আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (২১)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
পুলিশ জানায়, ড্যান্ডি সেবনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সালমানকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ নরসুন্দা নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। নিখোঁজের পাঁচ মাস পর গত শুক্রবার দুপুরে নদী থেকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. মিজানুর রহমান জানান, গত ১৮ মে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সালমান বাড়ি থেকে ইলিমান বাজারের উদ্দেশে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন ১৯ মে হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একপর্যায়ে সালমান ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মুঠোফোনের কথোপকথন এবং চলাফেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে সালমানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বন্ধুদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ১৬ অক্টোবর হোসেনপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন সালমানের বাবা ফজলুর রহমান।
মামলার পর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর গ্রাম থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সালমানকে হত্যার পর মরদেহ গুমের কথা স্বীকার করেছেন। পাঁচজন মিলে ড্যান্ডি সেবন করার সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। পরে বাঁশটি কেড়ে নিয়ে চারজন সালমানকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর তার মরদেহটি নদীর কচুরিপানার নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের হাতিমের স্কুলের পাশের নরসুন্দা নদী থেকে কঙ্কালের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে ছিল মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় এবং একটি গেঞ্জি।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে গেঞ্জি দেখে সালমানের মা সালমা কঙ্কালটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন। তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে কঙ্কালটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।


