নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে শনিবার নেত্রকোণা সদর ও দুর্গাপুরে পৃথক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌরশহরের প্রেসক্লাব মোড়ে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। কর্মসূচি শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। হত্যাকাণ্ডের ৪০ ঘণ্টা পার হলেও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় বক্তারা নিহত সাংবাদিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আলিফ ফকিরকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়েন। পরে তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।


