ব্যবসার লাইসেন্স, অনুমোদন ও পরিদর্শনের জটিলতা কমাতে ট্রেড লাইসেন্সকে একক অনলাইন পোর্টালে আনা এবং একাধিক সরকারি সংস্থার পরিদর্শন একই দিনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
শনিবার সচিবালয়ে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এসব উদ্যোগ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এতে ব্যবসায়ীদের সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক ভোগান্তি কমবে। বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের দীর্ঘসূত্রতাও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন আলাদাভাবে ট্রেড লাইসেন্স দেয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীরা একটি পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আবেদন ও ফি পরিশোধ করে ঘরে বসেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।
লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সের নাম বদলে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নাম দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন, পারমিট ও লাইসেন্সে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন সংস্থার কাজের দ্বৈততা কমাতে প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছে। এসব খাতের প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু হয়েছে এবং পরে অন্য খাতেও তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও আলাদা আলাদা সরকারি সংস্থার বারবার কারখানা বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের বদলে যৌথ ব্যবস্থা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের নেতৃত্বে ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পূর্বনির্ধারিত দিনে একসঙ্গে পরিদর্শনের প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইনভেস্ট বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি ওই যৌথ পরিদর্শনে থাকবেন।
এতে একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক সংস্থার পৃথক পরিদর্শন কমবে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়।
বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়াও সহজ করার ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীরা বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে বাংলাদেশে কাজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নে অযৌক্তিক জটিলতা তৈরি হওয়া উচিত নয়।
এ সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় ব্যবসার ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর জোর দেন।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ টাস্কফোর্সের সদস্যরা অংশ নেন।
এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, অর্থ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


