রাজধানীর জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি আবাসন সংকট কমানো এবং ১০ থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
একনেক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, জিগাতলায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষিত ছয়তলা কলোনির ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ভবন এবং গাবতলা কলোনির অপসারণ করা তিনটি ভবনের জায়গায় আধুনিক আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ১৩ তলাবিশিষ্ট তিনটি আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভবনে ৮৮টি করে এবং অন্য ভবনে ৪৮টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৮৫০ বর্গফুট।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ২০২৩ সালের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ২০৫ জন। তাদের জন্য ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১০টি, যা মোট জনবলের প্রায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশের সমান।
অন্যদিকে বরাদ্দযোগ্য ফ্ল্যাট রয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৫০৩টি। এটি প্রকৃত চাহিদার ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ফলে সরকারি আবাসনের ঘাটতি প্রায় ৮৬ শতাংশ। এ কারণে অধিকাংশ সরকারি কর্মচারীকে বেসরকারি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বেসরকারি বাসার ভাড়া সরকারি কর্মচারীদের আয়ের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে মানসম্মত আবাসনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি মূলত ১০ থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকায় এ গ্রেডের কর্মরত জনবল ৪১ হাজার ৯৩ জন। তাঁদের জন্য ডি-২ টাইপের ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ২০ হাজারটি। বিপরীতে বরাদ্দযোগ্য ফ্ল্যাট রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ২৫২টি। ফলে এ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসন চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
মন্ত্রণালয়ের মতে, আবাসিক কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত বাসস্থানের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি অব্যবহৃত সরকারি জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকার জমি বর্তমানে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে জমিটি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রকল্পটি নেওয়া যৌক্তিক বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ জানিয়েছে, এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এর ফলে তাঁদের কাছ থেকে আরও উন্নত সেবা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে কমিশন।


