নিত্যপণ্যের পাশাপাশি রান্নার হাঁড়িপাতিল ও গৃহস্থালির অন্যান্য সরঞ্জামের দামও বাড়ছে। গত ১২ থেকে ১৮ মাসে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এতে সংসারের খরচের চাপ আরও বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামাল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বদলে নতুন পণ্য কেনাও দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
ঢাকার নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, চার কেজি ওজনের একটি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ির দাম এখন ২ হাজার ৭০০ টাকা। এক বছর আগে এর দাম ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা।
একইভাবে চার কেজি ওজনের একটি রুপার হাঁড়ির দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। আকারভেদে কড়াই, ফ্রাইপ্যান, রাইস কুকার ও প্রেশার কুকারের দামও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দামি রান্নার সরঞ্জাম কিনতে ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি দ্বিধা করছেন। তবে প্রয়োজনের কারণে কেনাকাটা চলছে।
স্টিলের চামচ, মেলামাইনের প্লেট ও প্লাস্টিকের পণ্যসহ ছোটখাটো জিনিসের দামও প্রতিটি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, এসব পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি অনেক সময় ক্রেতাদের চোখে পড়ে না। তবে দামি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে তাঁরা বেশি সতর্ক হচ্ছেন।
ঢাকার নিউমার্কেটের হোসেন ক্রোকারিজের মালিক হোসেন আলী বলেন, আগে একটি পিতলের হাঁড়ি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন সেটির দাম ৩ হাজার টাকা।
তিনি টাইমসকে বলেন, ‘আমরা বেশি দাম নিতে পারি না। ব্যবসা চালিয়ে রাখতে অল্প লাভে বিক্রি করতে হয়।’
কারওয়ান বাজারের ভাই ভাই ক্রোকারিজের মালিক আবদুল মতিন বলেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি কোম্পানি মাত্র এক সপ্তাহ আগে দাম ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর আগেও আরেক দফায় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতারা এলে আমরা পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলি। এর বাইরে আমাদের আর কিছু করার নেই।’
দাম বাড়ায় কেনাকাটার আগে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ক্রেতাদের। নিউমার্কেটে কড়াই কিনতে আসা মপু মারমা বলেন, তিনি ভেবেছিলেন, সেখানে দাম কিছুটা কম পাবেন।
তিনি টাইমসকে বলেন, ‘কম দামে কিছু পাওয়া যাবে ভেবে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু দাম তেমন কম নয়। অন্য সবকিছুর মতো রান্নার সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
বোনের সঙ্গে গৃহস্থালির জিনিসপত্র কিনতে আসা মুক্তা আক্তার বলেন, দাম বাড়লেও পরিবারগুলোর সামনে কেনা ছাড়া তেমন কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘রান্নার সরঞ্জাম সাধারণত অনেক দিন টেকে। কিন্তু নতুন করে কিনতে এলে দেখি দাম বেড়ে গেছে। রান্নার জন্য এসব জিনিস দরকার। তাই কষ্ট হলেও কিনতে হয়।’
এদিকে গত এক সপ্তাহে ঢাকার কাঁচাবাজারে পণ্যের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও বেড়েছে মাছের দাম।
কারওয়ান বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০, দেশি গাজর ১০০ থেকে ১২০, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ এবং ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা।
মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০, পটোল ৭০, কচু ৬০, টমেটো ১৬০ থেকে ১৮০, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ এবং কাঁচামরিচ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
শীতের আগাম শিম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। লাউয়ের দাম ছিল প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে কোনো কোনো বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি ১৯০ টাকা থাকলেও এখন ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।
সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।
ডিমের দামও কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে এক ডজন বাদামি ফার্মের ডিমের দাম ছিল ১৫০ টাকা। এখন তা কমে ১৪০ টাকা হয়েছে। সাদা ফার্মের ডিমের দামও এক ডজনে ১৪০ টাকা থেকে কমে ১৩০ টাকা হয়েছে।
তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম বেশি রয়েছে। মাঝারি আকারের চাষের রুই প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৪৫০ এবং আকারভেদে কালবাউশ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ এবং মাঝারি আকারের কই ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।


