রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ১৬ ডিসেম্বর স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
গত সপ্তাহে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বর্তমান সচিবালয় আবদুল গণি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত এলাকায় প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনগুলোর মোট আয়তন হবে প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হয়েছে। ২০২৯ সালে নতুন সচিবালয়ে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৪৪টি প্লট।
রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে হাইকোর্টে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি নথিপত্র যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে।
এ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথি-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পি-ভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সরকারি ভবনের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


