চাকরির প্রয়োজনে স্ত্রী ও পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় থাকতেন নুর আলম। ১৪ অক্টোবর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। কিন্তু জরুরি কাজ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। এই ফিরে আসাই তার জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করবে, যা আর কখনো পূরণ হওয়ার নয়। কক্সবাজারের ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন তার স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৩) ও পাঁচ বছরের ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ।
শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ফারিয়া ও তার ছেলেও রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুর আলম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। চাকরির সুবাদে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
১৪ অক্টোবর তারা কক্সবাজারে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানকালে শনিবার সকালে ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এতে ফারিয়া ও তার শিশুসন্তানসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়।
আগুনে নিহতরা হলেন রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।
এই ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শাহাব উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে রিসোর্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করে উখিয়া থানা-পুলিশ।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে উঠিয়ার পাটোয়ারটেকে ইনানী বিচের মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে।


