‘চাঁদা না দেওয়ায়’ দ. আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

‘চাঁদা না দেওয়ায়’ দ. আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা
দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলিতে নিহত প্রবাসী মারুফ বেপারি। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

জীবিকার তাগিদে ১৪ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার মারুফ বেপারি। সেখানে ব্যবসা করে চালাচ্ছিলেন পরিবারের খরচ। তবে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর চাঁদা দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

বুধবার রাত ১০টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেন সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন।

বৃহস্পতিবার মারুফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।

মারুফ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তার তিন সন্তান রয়েছে।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, ১৪ বছর আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান মারুফ। সেখানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে বুস্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী তার কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করত।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে মারুফের বিরোধ বাধে। এর জেরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় প্রবাসীদের।

মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, ‘আফ্রিকার ওই এলাকায় ব্যবসা করলে স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ দিতে হয়। আমার কাকা তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।’

কামরুজ্জামান আরও জানান, চাঁদা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তার কাকাকে গুলি করে।

মারুফের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেছেন স্বজনেরা।

চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যায়, তারা রেমিট্যান্সযোদ্ধা। তারা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠায়। তাদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্বজনদের মাধ্যমে তারা ঘটনার খবর পেয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মারুফের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রাখা আছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad