৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’।
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ঘোষিত ফল অনুযায়ী ভিপি ও জিএস— উভয় পদেই জয়ী হয়েছেন শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা, আর এজিএস পদে জয় পেয়েছে ছাত্রদল।
ভিপি পদে সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট। যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল প্যানেলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৩ ভোট।
জিএস পদে একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ৮ হাজার ০৩১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মো. শাফায়েত হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪৯ ভোট।
অন্যদিকে, এজিএস পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৮৬ ভোট, যেখানে শিবিরের সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ ভোট।
বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে রাতভর ভোট গণনা চলে, এবং ফলাফল ঘোষণা করা হয় রাত ৪টার দিকে। গণনা প্রক্রিয়া সরাসরি দেখানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি স্থানে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনে। ফল ঘোষণার পরপরই উল্লাসে ফেটে পড়ে বিজয়ী প্যানেলের নেতাকর্মীরা।
তবে ফল প্রকাশ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। এক নম্বর গেট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। উভয়পক্ষ ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
৩৫ বছর অনুষ্ঠিত হওয়া চাকসুতে ১৫টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ৫১৬ জনের মধ্যে ১৭ হাজার ৭১৭ জন ভোট প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটের ৬৫ শতাংশ।
বুধবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আইটি কেন্দ্রে ৪০৩৬ এর মধ্যে ২৯০৮, সায়েন্স কেন্দ্রে ৪৫৫৮ এর মধ্যে ৩০৯৯, বিবিএ কেন্দ্রে ৭০৬৮ এর মধ্যে ৪২৭৯, সোশ্যাল সায়েন্স কেন্দ্রে ৬৬০৪ এর মধ্যে ৩৭৭৩ জন এবং কলা অনুষদ কেন্দ্রে ৫২৬৩ এর মধ্যে ৩৬১৯ জন ভোট দিয়েছেন।
এছাড়া চাকসু ভবনে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কেন্দ্রে ৭৮ জন ভোটারের মধ্যে ৩৯ জন ভোট দিয়েছেন।


