চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চৌধুরীহাট এলাকায় বালুর সাইট দখলকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে শহিদ নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরণদ্বীপ ফকিরাখালী থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে ‘শহিদ বাহিনী’র বিরুদ্ধে। ওই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা শহিদের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করে আসছেন এলাকাবাসী।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে শহিদের নেতৃত্বে একদল লোক কয়েকটি ট্রাক নিয়ে চৌধুরীহাট এলাকার একটি বালুর সাইটে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তারা বালু লুটের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলিও ছোড়ে বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আশপাশের লোকজন একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে শহিদ গণপিটুনিতে আহত হন। পরে তার সহযোগীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার আগে থেকেই এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ে উত্তেজনা চলছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, চৌধুরীহাট এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
এ ছাড়া, বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি বালুর ব্যবসা সম্প্রতি জোরপূর্বক দখল করে নেয় শহিদ বাহিনী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, গোলাগুলির ঘটনা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ঘটনার তদন্ত চলমান। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।


