লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকার আলোচিত ওয়াজেদ আলী প্রধান হত্যা মামলার প্রায় ১৫ বছর পর রায় দিয়েছে আদালত।
রায়ে প্রধান আসামি মো. মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সুমন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. শাহিন ওরফে পিচ্ছি শাহিন, মো. ফরিদুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু, মো. নূর আলম, মো. লিটন মিয়া, মো. রবিউল ইসলাম এবং মো. হাফিজুল ইসলাম। রায়ের পর তাদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট রাত সোয়া ১ টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার উত্তরমারী (বুড়িমারী) এলাকায় ওয়াজেদ আলী প্রধানকে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের বাবা মফিজাল হোসেন প্রধান পাটগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্বাসনালী ও ডান পাশের প্রধান রক্তনালি কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই দুলালের মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত মামুনুর রশীদ সুমনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


