চট্টগ্রাম বন্দর ও সমুদ্র অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং পোর্টে পরিণত করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠবে।’
সোমবার চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিন সকালে নগরীর ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বন্দর নিমতলা খালপাড় এলাকা থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে তিনি নিমতলা খালপাড়, পূর্ব ও পশ্চিম নিমতলা, সিডিএ ৯ নম্বর ব্রিজ, রোহিঙ্গা পাড়া, হিন্দু পাড়া, ৩ নম্বর ফকিরহাট ও পশ্চিম গোসাইলডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
গণসংযোগে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, যুবক, নারী, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি বিএনপির দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরেন।
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করেন।
গণসংযোগে বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে আধুনিক ওয়্যারহাউজ, কনটেইনার ডিপো, শিপিং সার্ভিস ও আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সুবিধা গড়ে তোলা হবে। বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে পুরো এলাকা একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে, যেখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও লেনদেন পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম হবে দেশের প্রধান ট্রেডিং পোস্ট ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টার। শিল্প-কারখানা, রপ্তানি-আমদানি, উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠবে এই অঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুবিধার কারণে আলাদা করে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার প্রয়োজন নেই; স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হবে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমীর খসরু বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, এটি গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। রাজনীতির ধরন বদলে গেছে। এখন মানুষের কাছে সরাসরি গিয়ে কথা বলা, তাদের সমস্যা শোনা এবং সমাধানের পথ দেখানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করে। জনগণের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে জনগণের সেবার জন্যই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রচারণা, ভুয়া প্রতিশ্রুতি বা বিভ্রান্তিকর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’


