পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার সকাল থেকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ও ডিপিএস করার কথা বলে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেন। পরে ওই অর্থ ব্যাংকের মূল অনলাইন সার্ভারে জমা না করে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মোবাইলে লেনদেনের কোনো মেসেজ না এলেও সার্ভার সমস্যার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হতো।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারী গ্রাহক জানান, তিনি পাঁচ বছরের জন্য পাঁচ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে টাকা জমা দিলেও বর্তমানে ব্যাংকের হিসাবে ওই অর্থের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক নারী গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিন লাখ টাকা ফিক্সড করার পর কিছু অর্থ ফেরত পেলেও বর্তমানে তার হিসাবে মাত্র ৫০০ টাকা রয়েছে।
শুধু সাধারণ গ্রাহকই নন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন আউটলেটটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীও। তার দাবি, অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার তার মাদার অ্যাকাউন্টের ১০ লাখ টাকাও আত্মসাৎ করেছেন। ফলে অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে শূন্য হয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আউটলেটটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, এ পর্যন্ত ১৫ জন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ, রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং থানায় জিডিও করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ সামনে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীরা জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


