শিক্ষার হার বাড়লেও দেশে নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধ কমছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষিতের হার ক্রমান্বয়ে বাড়লেও সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধর্ষণের মতো অপরাধও বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের লাভলেইনস্থ স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর আয়োজিত ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘শিক্ষা যদি কেবল পার্থিব উন্নতি বা বস্তুবাদিতার জন্য হয়, তবে তা মানুষকে প্রকৃত মুক্তি দিতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত উন্নয়ন। বর্তমানে আমাদের দেশে চোখধাঁধানো উন্নয়ন ও অট্টালিকা তৈরি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মানবিক উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে না।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।’
তিনি বলেন, সম্পদ কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়ে আছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ৮০ শতাংশ সম্পদ জিম্মি হয়ে আছে, আর বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ মাত্র ২০ শতাংশ সম্পদ নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশ থেকে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ঋণের বোঝা ৭৭ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই ঋণের কেবল সুদ পরিশোধ করতেই বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা থেকে আসবে। ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা ও ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা লুটের সমালোচনাও করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাদ্দাম বলেন, তাদের পড়াশোনার খরচ সাধারণ কুলি, মজুর ও রিকশাওয়ালার ঘাম ঝরানো ট্যাক্সের টাকায় চলে। তাই মেধার অহংকারে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম না করে তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি মনে করেন, সমাজে যখন নৈতিকতার অভাব দেখা দেয় এবং দুর্নীতি বেড়ে যায়, তখনই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
বক্তব্যে তিনি গাজা, ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উন্নত রাষ্ট্রগুলো মানবতার কথা বললেও গাজায় মুসলমানদের গণহারে হত্যা করছে এবং নিজেদের অস্ত্র রপ্তানির স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্রের কথা বলে না। পাশ্চাত্য সমাজে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি এবং পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বস্তুগত উন্নয়ন মানুষের শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম এবং ডাকসুর জিএস ও শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ। অনুষ্ঠানে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্তসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।


