কেবল একাত্তরের ভূমিকার জন্য নয় ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত জামায়াতের কারণে যদি কারও কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে তাহলে তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘শুধু একাত্তর না ৪৭ সাল থেকে শুরু করে জামায়াত ইসলামীর দ্বারা কেউ যদি কোনো কষ্ট পান, কারো যদি কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে আমি সব ব্যক্তি এবং সংগঠনের পক্ষে নিঃশর্তে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। আপনারা আমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সেখানে বসবাসরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন তিনি। কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন এই মতবিনিময়ের আয়োজন করে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এর বিরোধিতা করেছিল জামায়াত। সেসময় দলটির নেতারা রাজাকার, আল শামস ও আলবদর বাহিনী করে স্থানীয় পর্যায়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে। স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটায় দলটির নেতাকর্মীরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশে রাজনীতির সুযোগ পায়নি দলটি।
জামায়াত ভুল করে না একথা বলা যাবে না এমন মন্তব্য করে দলটির আমির বলেন, ‘আজকের দিন পর্যন্ত আমরা ভুল করি নাই একথা বলব কী করে? আমরা মানুষ, আমাদের সংগঠন একটা মানুষের সংগঠন। আমাদের ১০০টার মধ্যে ৯৯টা ডিসিশন সঠিক। একটা তো বেঠিক হতেই পারে।’
‘সেই বেঠিক একটা ডিসিশনের জন্য আমার জাতির তো কোনো ক্ষতি হতে পারে। তাহলে সেই ক্ষেত্রে আমার কোনো ডিসিশনে জাতির ক্ষতি হলে আমার মাফ চাইতে অসুবিধা কোথায়?’
একাত্তরে দেশের মানুষের স্বাধীনতার প্রত্যাশাকে সেসময়কার জামায়াত নেতাদের সম্মান করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন জামায়াতের বর্তমান আমির। তবে কেন সেই নেতারা তা করেননি, সেটি বলার উপযুক্ত ব্যক্তি তিনি নন বলেও জানান। কারণ সেসময় তিনি ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ তখন যারা ছিলেন, কোন প্রেক্ষাপটে তারা কোন ডিসিশন নিতে বাধ্য হয়েছেন, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
এর আগে গত ২৭ মে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছিলেন শফিকুর রহমান।
সেসময়ও তিনি বলেনছিলেন, ‘এই সংগঠনের প্রতিটি কর্মী, সহকর্মী কিংবা দলের দ্বারা যে যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন; সবার কাছে কোনো শর্ত নাই, বিনা শর্তে মাফ চাই। আপনারা আমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’


