কোনো দলীয় দাবি নয়, জামায়াতে ইসলামী গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বলে জানিয়েছেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ লংমার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য,আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।’
শনিবার সকালে পৌনে ১০টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইবাস রোডে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’ এ সময় আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পথ সভায় এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।’
খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তরজনপদে লংমার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটের গণরায় না মেনে সরকার প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা সরকারের ব্যর্থতা কোটি কোটি মানুষকে জানাচ্ছি। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’
খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের গণদাবি নিয়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। সরকারকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘বিএনপি এখন নাই নাই খাই খাই পার্টিতে পরিণত হয়েছে। দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও লুটপাট বন্ধ করতে আমাদের লড়াই চলছে।’
সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এমপিসহ স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল।
পথসভা সঞ্চালনা করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান।
এর আগে লাখো জনতার উপস্থিতিতে রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে লং মার্চের উদ্বোধন করেন জামায়ত আমিরসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এসময় তেজগাঁ, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গীতে হাজার হাজার নারী পুরুষ ফুল ও স্লোগান দিয়ে অভিবাদন জানায়। পরে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডের পথসভায় যোগ দেয়।
গাজীপুরের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড; সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়; বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেবে এবং সবশেষ রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের অভিবাদন নেবে করবে লংমার্চের বহর।


