কিশোরগঞ্জে দুই দিনে পানিতে ডুবে ৯ জনের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জে দুই দিনে পানিতে ডুবে ৯ জনের মৃত্যু
নিহত ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন। ছবি কোলাজ টাইমস
Advertisement
Advertisement

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের চার শিশু, দুই কিশোর, এক যুবক ও একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে মো. তাসিন (৫) ও শাওন মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৫), ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার মেয়ে ফাইজা আক্তার (৫), নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের মজলু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১১), ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে শুভ ইসলাম স্মরণ (১২), কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) ও গাইটাল এলাকার ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)।

নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে শুক্রবার সকালে পুকুরে ডুবে মারা যায় শিশু মোহাম্মদ হাকিম। খেলার সময় অসাবধানতাবশত সে পুকুরে পড়ে যায়। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিকলীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই দিন সকালে মিঠামইনের হাওরে শিক্ষা সফরে এসে পানিতে ডুবে মারা যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন। গাজীপুরের টঙ্গীর বাইতুল কোরআন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ৪০ শিক্ষার্থী হাওরে যান। ভ্রমণ শেষে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় গোসল করতে নামলে তীব্র স্রোতে আরিফ ভেসে যায়। পরে সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করেন। মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

কটিয়াদীর দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামে শুক্রবার দুপুরে বিলে ডুবে মারা যায় নাঈম মিয়া। সহপাঠীদের সঙ্গে বিলে গোসল করতে গিয়ে প্লাস্টিকের বোতল সহায়াতা হিসেবে ব্যবহার করেছিল সে। বাড়ি ফেরার পথে বোতলটি আনতে ফিরে গেলে গভীর পানিতে পড়ে যায় সে। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় নদীতে ভেসে ওঠে নিখোঁজ শিশু শুভ ইসলাম স্মরণের মরদেহ। বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে গোসল করতে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বিকালে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক লিটন বোস তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন। শুক্রবার বিকালে পরিবার নিয়ে হাওরে বেড়াতে গিয়ে তার ছোট মেয়ে পানিতে পড়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে তিনি পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিজে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী তার মরদেহ উদ্ধার করেন। করিমগঞ্জ থানার ওসি সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকায় শনিবার দুপুরে খালের পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু তাসিন ও জান্নাতুল মাওয়া। বাড়ির পাশে খেলার সময় তারা খালে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় না ফেরায় স্বজনেরা খালে নেমে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। বাজিতপুর থানার ওসি এস এম শহীদুল্লাহ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে মারা যান যুবক মোহাম্মদ ফয়সাল। শনিবার দুপুরে তাবলিগ জামাতে গিয়ে তিনি গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

ইটনার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামে হাওরের পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু ফাইজা আক্তার। শুক্রবার দুপুরে বড় বোনের সঙ্গে গোসল করতে নেমে সে তলিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। ইটনা থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ খান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad