চিত্রনায়ক ওমর সানীর মালিকানায় আছে মানিকগঞ্জের অরঙ্গবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ রেস্টুরেন্টে। সেখানে এক ক্রেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে রেস্টুরেন্টটির এক কর্মচারীর। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আতিকুর রহমান খানের চাচা খলিলুল রহমান খান বাদল ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা আসামিরা হলেন মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬)। এজাহার সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান চার-পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে আসামিরা দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ করছেন—এমন অভিযোগে তিনি ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করেন। এতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আতিকুর ও তার সঙ্গীরা মূল সড়কের দিকে দৌড়ে যান। এ সময় ইমরান ধারালো অস্ত্র দিয়ে আতিকুরের পিঠে আঘাত করেন। পরে লিখন লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। হামলার সময় তার পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও কথা অভিযোগে বলা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
মামলার বাদী খলিলুল রহমান খান বাদল অভিযোগ করেন, রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি দলকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাতিজা প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
রেস্টুরেন্টের মালিক ওমর সানী বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, লিখন নামে এক কর্মচারী একজন নারী ক্রেতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। নানরুটি নিয়ে অসন্তোষের জেরে শুরু হওয়া বিতর্ক হাতাহাতিতে গড়ায় এবং পরে রেস্টুরেন্টের বাইরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তার দাবি, ছুরিকাঘাতের ঘটনা রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঘটেনি। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিও জানান তিনি।


