কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মধ্যরাতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪৫টি শেল্টার ও একটি এনজিওর অফিস পুড়ে গেছে।
এ ঘটনায় সোনা বাণু (৮৬) নামে এক রোহিঙ্গা নারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে আশ্রয়শিবিরের ই–৫ ও ই–১৪ ব্লক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তেই বেশ কয়েকটি বসতি আগুনে পুড়ে যায়।
নিহত সোনা বাণু ১১ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ই–১৪ ব্লকের বাসিন্দা। স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপ–সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে উখিয়া থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে কক্সবাজার ও রামু থেকে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়। সব মিলিয়ে ছয়টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।’
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, প্রাথমিকভাবে ২৫টি বসতি ও একটি এনজিও অফিস পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত এপিবিএন ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উখিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫শটির শেল্টার পুড়ে যায়।


