দুই দফায় আইসিসির সাথে বৈঠকের পরও বদলায়নি বিসিবির সিদ্ধান্ত। নিরাপত্তা ইস্যুতে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে এখনো অনড় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। ক্রিকইনফোর বরাতে জানা গেছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ২১ জানুয়ারির মধ্যে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশকে। তবে সোমবার এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি।
সেই ধাবারাবিকতায় এএফপি জানায়, ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে র্যাংকিং বিবেচনায় স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় খেলাতে পারে আইসিসি। যদিও মঙ্গলবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ভারতের চাপে আইসিসির দেয়া কোনো অযৌক্তিক শর্ত তারা মেনে নেবেন না।
ভেন্যু বদলের জন্য আইসিসিকে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই অনুরোধ করে আসছে বিসিবি। ওদিকে বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে তিন সপ্তাহের কম থাকার কারণে আইসিসির পক্ষেও সেটা বাস্তবায়ন করা কঠিন। যদিও ভারতের সাথে রাজনৈতিক বৈরিতায় গত ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেখানে খেলতে যায়নি পাকিস্তান।
সেই প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আসিফ নজরুল বলেন, ‘এর আগে এমন উদাহরণ আছে। ভারত পাকিস্তানে খেলতে যাবে না বলার পর আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরাও যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না।’
বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে খেলানোর সংবাদের প্রেক্ষিতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেবে, এমন কোনো কথা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শুনিনি। কথা হচ্ছে, যদি ভারতীয় বোর্ডের কাছে নতি স্বীকার করে আইসিসি আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা তা মানব না।’
গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মেনে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। মূলত উগ্রবাদীদের হুমকি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। সেদিনই নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে আইসিসিকে মেইল করে বিসিবি জানায়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের বাইরে সরিয়ে নিয়ে। সরাসরি উল্লেখ না করলেও সেটা যৌথ আয়োজক শ্রীলংকার দিকেই ইংগিত করে বিসিবি।
গেল রোববার আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঘণ্টা দেড়েক বৈঠকের পরেও অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি বিসিবির। প্রস্তাব জানিয়েছে ‘সি’ গ্রুপ থেকে তাদের সরিয়ে ‘বি’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ডের সাথে অদলবদলের। কারণ সেই গ্রুপের সব ম্যাচই হবে শ্রীলংকায়। নিজেদের অবস্থানে অনড় আইসিসি এই প্রস্তাবেও সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে একাধিক সূত্রে।


