স্বাধীন তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে শনিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
টিআইবির দাবি, এক বছর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়নি, যা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিআইবি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তথ্য কমিশন না থাকায় সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে এবং এর ফলে সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা ও অবাধ তথ্য প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ছাড়া, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিলেও তথ্য কমিশন এবং তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে নাগরিক সমাজও সরকারের কাছে বারবার সুপারিশ করেছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষায় সরকারের উদাসীনতা একটি বড় ব্যর্থতা, যার ফলে বিভিন্ন সরকারি দফতরে তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা এবং স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ না করার সংস্কৃতি চালু রয়েছে।’
টিআইবি সরকারের কাছে তাদের ১৫ দফা সুপারিশ প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো-তথ্য অধিকার আইনটি যুগোপোযোগী করা, রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতায় আনা, এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা।
এ ছাড়া, নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।


