বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ল্যান্ডমাইন ও ভারী গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ দল। রামু সেনানিবাস থেকে আগত ওই দল দুই দিনব্যাপী অভিযানে অন্তত আটটি ল্যান্ডমাইন, বিস্ফোরক সামগ্রী শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয় ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি ও পেয়ারাবুনিয়া সীমান্ত এলাকায়। অভিযানে ১টি ল্যান্ডমাইন, ৩টি গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা এবং ৪টি মর্টার শেল শনাক্ত করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন রামু সেনানিবাসের অর্ডিন্যান্স মেজর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। তাকে সহায়তা করেন প্রকৌশলী কোরের মেজর ফারজানা ও অন্যান্য সেনা সদস্যরা।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এম খায়রুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিজেদের প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখে। এর কিছু অংশ বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে স্থাপন করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতরেও কিছু এলাকায়, বিশেষ করে টহলরুটের কাছাকাছি বিদ্রোহীরা মাইন পুঁতে রাখে। এতে সীমান্তে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়েন। সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে বিজিবি ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে এই মাইন ও বিস্ফোরক শনাক্ত করে ধ্বংসের কাজ সম্পন্ন করেছে।’
গত রোববার সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলারের কাছে টহলরত অবস্থায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বিজিবির নায়েক মো. আক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় আরাকান আর্মির ছোট ছোট ক্যাম্প রয়েছে। তারা মাঝেমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের টহল এলাকার কাছে মাইন পুঁতে রাখে।
বিজিবির অনুরোধে রামু সেনানিবাসের ৩৭ সদস্যের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মাঠে নামে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযান শেষ করে।
বিজিবি জানিয়েছে, ওই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে একটি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মোট ১৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২৪ সালে ৩ জন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১২ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ১২ অক্টোবর বিজিবির এক সদস্য পা হারান।
এ ছাড়া, মঙ্গলবার সকালে পোয়মুহুরী সীমান্তে মিয়ানমারের এক নাগরিক নিহত এবং এক বাংলাদেশি আহত হন। ২০২৪ সালে টেকনাফের নাফ নদীতে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে এক রোহিঙ্গা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারান।


