বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এসব প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজশাহী বললেই পদ্মা নদীর কথা মনে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে পদ্মা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র-যে নদীর কথাই বলা হোক, কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই। পদ্মা নদীর সঙ্গে যুক্ত খালগুলোতেও পানি নেই, অথচ কৃষি ও মানুষের জীবনের জন্য নদীতে পানি প্রয়োজন।
ধানের শীষ বিজয়ী হলে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে এবং এই এলাকার খালগুলো পুনঃখনন করা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভোটের মাধ্যমেই জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দেশকে গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করা হবে নাকি অন্য কোনো দিকে চলে যাবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে দেখা হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তনের সময়ও কাউকে ধর্ম দিয়ে বিচার করা হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, দেশ গড়ার এবং স্বাধীনতাকে রক্ষা করার সময় এসেছে, যেখানে মানুষকে মানুষ হিসেবে এবং সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে দেখা হবে।
জনসভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী কৃষির সঙ্গে যুক্ত এবং কৃষক ভালো থাকলেই দেশের মানুষ ভালো থাকবে। এই লক্ষ্যেই সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান।
উত্তরাঞ্চল উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বন্ধ থাকা বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে, রাজশাহীর আইটি পার্ক সচল করা হবে এবং রাজশাহী বিভাগে একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬–১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষের ভোট ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, অথচ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন–রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, শিক্ষা ও কৃষকদের সহায়তা–নিশ্চিত করা হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তনের মাধ্যমে যেন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, সে জন্যই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে না পারলে কোনো প্রকল্পই জনগণের প্রকল্প হবে না, আর জনগণের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করা জরুরি।
শান্তিপূর্ণ রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ঝগড়া-বিবাদে বিশ্বাস করে না এবং শান্তি থাকলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করা। আর সেই তদন্তে বিএনপির কোনো ভূমিকা থাকলে দলটি সহযোগিতা করবে।’
সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের জয় হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের জয়যাত্রা শুরু হবে।
জনসভায় জেলা সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এ সময় মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।


