মিয়ানমারের একটি হাসপাতালে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন ৬৮ জনেরও বেশি।
ঘটনাস্থলের এক ত্রাণকর্মীর বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমানাঘেঁষা পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ জেনারেল হাসপাতালে বুধবার সন্ধ্যায় একটি সামরিক যুদ্ধবিমান বোমা ফেলে।
ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন আং বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। এ পর্যন্ত আমরা ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছি এবং ধারণা করছি সংখ্যা আরও বাড়বে। এছাড়া ৬৮ জন আহত হয়েছে এবং এ সংখ্যা আরও বাড়বে।’
তিনি আরও জানান, রাতভর হাসপাতালের বাইরে অন্তত ২০টি মরদেহ কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে।
রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ)। বুধবার রাতে এএ-র স্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, রাত ৯টার দিকে বিমান হামলায় হাসপাতালের ১০ জন রোগী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তবে হামলার বিষয়ে জান্তা সরকারের কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে চলতি মাসেই নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটির জান্তা সরকার। তার আগে জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের সেনারা।
সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে এক দশকের গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিহত করতে বছর বছর বিমান হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে জান্তারা।
এই গৃহযুদ্ধ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সামরিক সরকার। তবে বিদ্রোহীরা বলছেন, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এই ভোট গ্রহণ তারা ঠেকিয়ে দেবেন। সেসব এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টাতেই এসব বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী।
সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, জান্তা বাহিনীর সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে আরাকান আর্মির বিদ্রোহীরা। তারা রাখাইনের ১৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তবে তাদের এই নিয়ন্ত্রণ মূলত রাখাইন ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ। তাদের এক প্রকার অবরুদ্ধ করে রেখেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।


