বলিউডের হি-ম্যানখ্যাত সুপারস্টার ধর্মেন্দ্র আর নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে মুম্বাইয়ের নিজের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মেন্দ্র মুগ্ধ করে রেখেছিলেন ভারতের দর্শকদের। ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের নসরালিতে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে তিনি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বলিউডের সুপারস্টার। স্কুলশিক্ষক বাবার কাছে পেয়েছিলেন শ্রম আর সততার শিক্ষা। দেশভাগের সময়কার অভিজ্ঞতা তার জীবনবোধে প্রভাব ফেলে। ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক পাস করে কিছুদিন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত মুম্বাই পাড়ি দেন। ফিল্মফেয়ারের ট্যালেন্ট কনটেস্ট জিতে প্রবেশ করেন সিনেমার রঙিন দুনিয়ায়।
১৯৬০ সালে অর্জুন হিংগোরানি পরিচালিত ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ দিয়ে তার চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হলেও তিনি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে টিকিয়ে রাখেন। ১৯৬৩ সালে ‘বন্দিনি’তে অভিনয়ও তার প্রতি আলাদা নজর ফেরায়। তবে বড় সাফল্য আসে ১৯৬৪ সালে ‘হকিকত’ দিয়ে। এরপর ‘ফুল অউর পাত্থর’ (১৯৬৬) ব্লকবাস্টার হয়। এ ছবিটিই তাকে প্রথম ফিল্মফেয়ার মনোনয়ন এনে দেয়।
‘গরম ধরম’ মুক্তির পর রোমান্টিক হিরোর পাশাপাশি তার অ্যাকশন হিরো ইমেজও গড়ে ওঠে। ‘শিকার’ (১৯৬৮) এবং ‘আঁখে’ (১৯৬৮) ছবিতে ছিল তার শক্তিশালী উপস্থিতি।
সত্তরের পুরো দশক তাকে নিয়ে যায় কিংবদন্তির কাতারে। এ সময়ের ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ (১৯৭১) ভারতের বক্স অফিসের অলটাইম ব্লকবাস্টার। ১৯৭৩ সালে তিনি সাতটি হিট উপহার দেন, যার মধ্যে ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’কে বলা হয় বলিউডের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মাসালা ছবি। জয়া বচ্চনের ভাষায়, তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম ‘গ্রিক গড’। নাচ, রোম্যান্স, অ্যাকশন; সব ক্ষেত্রেই শক্তিশালী।
তিন শতাধিক ছবির মধ্যে ৭৪টিই হিট; বলিউডে এমন রেকর্ড আর কারও নেই। অবশ্য তার অভিনীত প্রায় ১৮০টি ছবির রয়েছে ফ্লপ তকমাও।
‘সত্যকাম’ (১৯৬৯)-এর মতো মানবিক গল্প থেকে ‘চুপকে চুপকে’ (১৯৭৫)-এর মতো কমেডি— প্রায় সব ধরনের ছবিতেই কাজ করেছেন তিনি। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আইকনিক চরিত্র ‘শোলে’ (১৯৭৫)-এর বীরু, যা ভারতীয় সিনেমায় এক মাইলফলক।
তার অন্যান্য জনপ্রিয় ছবির মধ্যে আছে ‘সীতা অউর গীতা’ (১৯৭২), ‘ধরম বীর’ (১৯৭৭), ‘চারাস’ (১৯৭৬)। এর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নে ৩ কোটি ২০ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছিল ‘ধরম বীর’ ছবির।
ধর্মেন্দ্র তার ক্যারিয়ারে পেয়েছেন বহু সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা (১৯৯৭), পদ্মভূষণ (২০১২)। প্রযোজক হিসেবে ‘রকি অউর রানী কি প্রেম কাহানি’ (২০২৩)-এর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান।
নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিজয়তা ফিল্মস থেকে দুই ছেলে সানি দেওলকে ‘বেতাব’ (১৯৮৩) এবং ববি দেওলকে ‘বরসাত’ (১৯৯৫) দিয়ে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিকানেরের বিজেপির সংসদ সদস্য ছিলেন। যদিও সংসদে অনুপস্থিতির জন্য সমালোচিত হন সেসময়।
‘ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্ট’ (২০১১)-এ বিচারক ছিলেন। সবশেষ অভিনয় করেছেন ২০২৩ সালের ওয়েব সিরিজ ‘তাজ: ডিভাইডেড বাই ব্লাড’-এ।
১৯৫৪ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সন্তান সানি, ববি, বিজেতা ও অজিতা। পরে ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন— যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। হেমা–ধর্মেন্দ্র দম্পতির সন্তান এশা ও আহানা।
জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেন ‘আপনে’ (২০০৭), ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ (২০১১), ‘তেরি বাতোঁ ম্যায় অ্যাইসা উলঝা জিয়া’ (২০২৪) ছবিতে। তার অভিনীত শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ (২০২৫) মুক্তির অপেক্ষায়।


