চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রথমবারের মতো একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকার চেক গ্রহণ করেছে চসিক।
সোমবার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এটি শুধু রাজস্ব আদায় নয়, চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় বন্দর কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মেয়র জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চসিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন করা হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন সম্পন্ন হয় এবং উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা তাতে স্বাক্ষর করেন।
তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করলেও আইন অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুযায়ী ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক চসিককে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেয়র বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনে কোনো কম্পেনসেশন চার্জ দেয় না। অথচ বন্দরের ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের সড়ক ব্যবহার করায় প্রতিবছর সড়ক সংস্কারে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। তাই আইনি ভিত্তিতেই ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে।
আদায়কৃত অর্থ নগর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার, সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, সড়কবাতি, কালভার্ট ও প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, মশকনিধন কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও জানান, দেওয়ানহাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ককে আরসিসি সড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠিয়ে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে। পাশাপাশি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, হোটেল ও রেস্টুরেন্টের পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ উপস্থিত ছিলেন।


