বিশ্ববাজারে কম দামে বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করে বাজার ‘সয়লাব’ করার অভিযোগে চীনের ওপর নতুন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
এপির খবরে বলা হয় বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন শুল্কের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধারণা, এই হার নির্ধারণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান এক বছরের বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক, কোনোটিই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে না।
নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হলে চীনা পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি তা কার্যকর হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা চীনা পণ্যের ওপর সামগ্রিক শুল্কের চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মত পরিবর্তনও করতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি রায়ের পর নতুন কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত ট্রাম্পের প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ব্যাপক ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়।
এর পর মার্চে চীনসহ কয়েকটি দেশের অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতা ও জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত নীতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার অধীনে চীনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার তদন্তটি শুরু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও ব্যবসায় বৈষম্যকারী দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা এই ধারায় প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে।
চীনের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারতের বিরুদ্ধেও বাণিজ্য অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এসব দেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কবে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চীন অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধ একতরফা শুল্ক আরোপের মাধ্যমে নয়, বরং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
চীনের গাড়ি, সোলার প্যানেল, সিমেন্ট ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যাপক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বাণিজ্য অংশীদারদের উদ্বেগ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বাজারে আরও বেশি পণ্য রপ্তানি করছে।
এর ফলে গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়ে। তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটি কখনোই বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জনের লক্ষ্য নেয়নি।
চীনের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের আলোচনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর নতুন করে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ আরোপের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার জানান, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তবে কোন কোন দেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও বেইজিংয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধ এবং মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যে তেহরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।


