রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সমালোচনা বা বিষোদগার করলে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রতিপক্ষকে নিয়ে কথা বলার চেয়ে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রকৃত কল্যাণ তখনই সম্ভব, যখন পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যাবে। সেই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের মানুষের জন্য নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তিনি দেশে ফিরে মানুষের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো নারী সমাজ ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন করা। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন গৃহিণী প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা পাবেন। এই সহযোগিতা দিয়ে পুরো মাস না চললেও, মাসের অন্তত এক সপ্তাহের খরচ মেটাতে এটি সহায়ক হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।
গৃহিণীদের পাশাপাশি কৃষকদের সহযোগিতার জন্যও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের হাতে সরাসরি সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে।
ফেনীসহ সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। তবে তার মূল লক্ষ্য হলো গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য সারা দেশে বিশেষ ‘হেলথকেয়ার’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে পারেন। এতে করে বড় কোনো রোগ না হলে সাধারণ মানুষকে আর কষ্ট করে হাসপাতালে যেতে হবে না।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মানুষের যেমন উন্নয়নের দাবি আছে, তেমনি বিএনপিরও জনগণের কাছে একটি বড় দাবি আছে। আর সেই দাবি হলো আগামী দিনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে এবং যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। কারণ জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল ক্ষমতার মূল উৎস।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বরকত উল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন ভিপি, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আশরাফউদ্দিন নিজান, রফিকুল আলম মজনু, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


