ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের বিষয়ে জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সারা দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিন বিকাল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। মোট ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রশাসকরা সভায় যুক্ত হন।
সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। কোথাও কোথাও বিলবোর্ডের মাধ্যমেও প্রচার চলছে এবং আরও বিলবোর্ড স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক, ‘ভোট আলাপ’সহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোটের গাড়ি বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত সাতটি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি হয়েছে, আরও কনটেন্ট তৈরির কাজ চলমান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও নিজ নিজ এলাকার প্রচার কার্যক্রম সভায় তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ মহানগরী ও পৌর শহরের প্রবেশপথ এবং জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে।’
স্থানীয় সরকারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়টি ভোটারদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভাপতি সবাইকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহারের অনুরোধ জানান, যাতে জনগণের মধ্যে আগ্রহ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ব্যালট ও সংশ্লিষ্ট লিফলেট জনবহুল স্থানে প্রচার করতে হবে।’
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে নিজ নিজ সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচার কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত কনটেন্ট যত বেশি স্থানে ও যতবার সম্ভব প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।


