স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রার্থী হতে পারবেন না বলে সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনের দ্বাদশ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ইসি। সব আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার প্রস্তাব করা হবে। ঋণখেলাপি বলতে কেবল মূল ঋণ গ্রহীতা নন, বরং বন্ধকদাতা ও জামিনদারদেরও এর আওতায় আনা হবে। বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর ও ওয়াসার মতো সেবা প্রদানকারী সংস্থার বিল খেলাপিরাও ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উভয় ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে না।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রমে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রতি ১৫ বছর পর নির্দিষ্ট ফি প্রদান সাপেক্ষে এনআইডি নবায়ন করতে হবে। নবায়নের সময় পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ফ্যামিলি টি তৈরি করা সম্ভব হয়। ১৫ বছরের কম বয়সীদের এনআইডি প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বনিম্ন বয়সসীমা পরে নির্ধারণ করা হবে। পাবলিক পরীক্ষার সনদ বা জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে জন্মতারিখ সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনে করা যাবে এবং নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করতে দুই ধাপের পরিবর্তে এক ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বায়োমেট্রিক আপলোড করার পর তদন্ত সাপেক্ষে এখান থেকেই অনুমোদন দেওয়া হবে।
আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। ইসি সচিব জানান, কমিশন আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখে না। সুপারিশগুলো রাখা বা না রাখা সরকারের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে হওয়ার সম্ভাব্য সময়ের কথা বলা হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারদের নিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


