বাংলাদেশের মাটিতে শেখ পরিবারের রাজনীতি শেষ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
তারা বলেন, ‘জান দেব, কিন্তু জুলাই দেব না। বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার দাফন হবে না। কারণ বাংলাদেশের মাটিতে শেখ পরিবারের রাজনীতি শেষ।’
মঙ্গলবার বিকালে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা শাখা এনসিপির আয়োজনে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় তারা এই বক্তব্য দেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এই সরকার আসলে আমাদের যে পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্তের মধ্যে ভারতীয় যে অপনীতি রয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে জাতীয়ভাবে সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় নীতিমালা স্পষ্ট করা হবে।’
‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা নতজানু নীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পেয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলতেন, ঠিক একই ভাষায় এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্ডার কিলিংকে বৈধতা দিয়েছেন।’
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
দেশ একটি সংকটকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের সময়ের পরবর্তীতে মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখন হতাশায় পরিণত হচ্ছে। শুধুমাত্র সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙার কারণে আমাদের জাতীয় আত্মবিশ্বাস জাতীয় হতাশায় পরিণত হবে।’
সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এই সরকার এসে একটি শক্তিশালী উপকূল ব্যবস্থা করবে, সরকারি অফিসগুলো ঘুষ ও দুর্নীতিনুক্ত হবে। কিন্তু সরকারি অফিসগুলো এখনও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান আশা করলেও জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধাভোগী করা হয়েছে। সরকার জনগণকে লোডশেডিং উপহার দিয়ে হাতে হারিকেন ও মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে।’
গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘নির্বাচন চলে গিয়েছে, তারা এখন আর গণভোট মানবেন না। সংবিধানে নাকি গণভোট নেই। তারা বলে নির্বাচনের স্বার্থে গণভোটের পক্ষে বলেছিলেন। বিএনপি সরকার জনগণের সাথে দ্বিচারিতা করতে পারে, কিন্তু যে জনগণ জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল, যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছিল, যে বোন তার ভাইকে হারিয়েছে, যে বাবা তার সন্তানকে হারিয়েছিল, সেই জনগণ কখনো পথ হারাতে পারে না।’
পথসভায় নারীদের মূল্যায়ন এবং খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পর নারীদের মূল্যায়ন করা হয় না। ব্যবসায়ী নয়, বরং রিকশাওয়ালা ও খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ে তাদের দল লড়াই করবে। বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এনসিপির চিতলমারী শাখার প্রধান সমন্বয়কারী এফ এম শাহরিয়ার আল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।
সভার শেষের দিকে এনসিপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে ফুল দিয়ে এনসিপিতে যোগদান করেন। চিতলমারীতে পথসভা শেষে সন্ধ্যায় ফকিরহাট উপজেলা সদরে ডাকবাংলো মোড়ে আয়োজিত পথসভায় যোগ দেন এনসিপির নেতারা।


