গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবে শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবে হামাস

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবে শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবে হামাস
গাজার একটি ত্রাণশিবির থেকে খাবার সংগ্রহ করছেন একজন শরণার্থী। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ প্রস্তাবের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। বৃহস্পতিবার আল জাজিরাকে এ তথ্য জানান হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ নাজ্জাল।

তিনি বলেন, ‘গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন এবং শিগগিরই আমরা নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করব। ফিলিস্তিনি জনতার পক্ষে “প্রতিরোধ শক্তির” প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার আছে’।

নাজ্জাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় নেই, গলায় ছুরি ধরা… কেবল এই যুক্তিতে হামাস এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না যা দীর্ঘ মেয়াদে গাজাবাসীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।’

এদিকে গত সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফা প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। এতে বলা হয়, তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হামাসের হাতে আটক সব ইসরায়েলি বন্দিদের (জীবিত ও মৃত) মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই শান্তি পরিকল্পনায়।

গাজা যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ছবি: এপি/ইউএনবি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান নেতানিয়াহু। এরপরই তা প্রকাশ্যে আনে হোয়াইট হাউস। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলন হামাসকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে চারদিনের আল্টিমেটাম দেন। সে হিসেবে হামাসের হাতে সময়ও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন

এর আগে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাস রাজি হয়নি। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গাজার ভেতরে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল–দীন আল–হাদ্দাদের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। তবে নতুন মার্কিন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি একমত নন।

হাদ্দাদের মতে, তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি হোক বা না হোক- এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ‘হামাসকে শেষ করে দেওয়া’। কাজেই তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই হামাস অবস্থান নিয়েছে।

ফিলিস্তিনিরাও এ যুদ্ধের অবসান চান। তবে অনেকে মনে করেন ট্রাম্পের ঘোষিত প্রস্তাব ইসরায়েলের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা হামাসকে ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি করাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘হামাসকে “অজুহাত” হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিদিন গাজায় হাজারও বেসামরিক মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি শুধু প্রতিশোধ নয়, এটি জাতিগত নিধন এবং গণহত্যা।’

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর