চট্টগ্রামে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের দুই দিন পর মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের মহামায়া লেকের একটি পরিত্যক্ত কটেজ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীর ব্যবহৃত মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আবুল হাশেম (৫২), আকরাম (৩৪), শান্ত মিয়া (৩২), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুক (৩৪)।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ীর নাম মো. হেলাল উদ্দিন (৩৬)। তিনি হাটহাজারীর বাসিন্দা। শুলকবহর রওশন বোর্ডিং এলাকায় তার একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আবুল হাশেমের সঙ্গে হেলালের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ছিল। হাশেম ব্যবসায় ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে হেলাল ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হাশেম তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ।
৭ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবুল হাশেমসহ কয়েকজন সাদা মাইক্রোবাসে শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেলালকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন হেলালের মুঠোফোন থেকে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে এক লাখ টাকা পাঠাতেও বলা হয়।
৮ সেপ্টেম্বর জেসমিন আক্তার পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
প্রথমে উত্তর কাট্টলী থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবুল হাশেমকে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হাশেমের তথ্যের ভিত্তিতে লতিফপুর থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হেলালের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদে হেলালকে মহামায়া লেক এলাকায় আটকে রাখার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালানো হয়।
সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। একই স্থান থেকে হেলালকেও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পাওনা টাকা আদায়ের জন্য হেলালকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ আরও জানায়, আবুল হাশেম ও আকরাম শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে অপহরণে যুক্ত করেন।
এ ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়েছে।


