কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর রিসোর্টটির প্রচারণামূলক ভিডিও সরিয়ে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভ্রমণবিষয়ক কন্টেন্ট নির্মাতা জান্নাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জান্নাত দ্য লুনাটিক ট্রাভেলার’ নামে পরিচিত এই কন্টেন্ট নির্মাতা আগে রিসোর্টটিকে ইন্দোনেশিয়ার বালি, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রিসোর্টের সঙ্গে তুলনা করে প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করেছিলেন। তার ফেসবুক পেজে প্রায় চার লাখ অনুসারী রয়েছেন।
শনিবার অগ্নিকাণ্ডের পর পুরোনো ভিডিওগুলো সরিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন জান্নাত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের কাঠামো ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মতো কারিগরি বিষয় তদন্ত করা কন্টেন্ট নির্মাতাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
তবে তাদের তৈরি কনটেন্ট মানুষের ভ্রমণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। জান্নাতের ভাষায়, দর্শকদের প্রতি নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই পুরোনো প্রচারমূলক ভিডিওগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়েও তিনি আরও সচেতন থাকার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
এদিকে রিসোর্টটিকে উচ্চমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরে প্রচারমূলক ভিডিও তৈরির কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জান্নাত। তার প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে টুপটুপ রিসোর্টের প্রশংসা করে বলা হয়েছিল, ‘মালয়েশিয়া-বালি-থাইল্যান্ড নয়, বাংলাদেশেই রয়েছে কমফি একটি রিসোর্ট।’
শনিবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির স্থাপনা পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানিয়েছেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশও দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রের প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে কন্টেন্ট নির্মাতাদের দায়িত্ব ও সচেতনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।


