রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কপোতাক্ষ হোমস লিমিটেড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি করে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রেশন না করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুশান্ত কুমার ভৌমিক। এমনকি প্রাপ্য ফ্ল্যাট চাইতে গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘ইসলাম গার্ডেন’ প্রকল্পে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। সুশান্ত কুমার ভৌমিক গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন। এমনকি ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে ফোন করে তিনি উল্টো ভুক্তভোগীদের নামেই মামলা বা জিডি নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম টাইমসকে জানান, ‘কপোতাক্ষের এমডি সুশান্তের বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’
ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান টাইমসের কাছে বলেন, ইসলাম গার্ডেনের ‘বি/৩’ ফ্ল্যাটের পুরো টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও চুক্তি ও লিখিত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে সুশান্ত কুমার ভৌমিক ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছেন না। উপরন্তু রাজউক অনুমোদিত নকশায় নেই এমন অতিরিক্ত জায়গার অজুহাত দেখিয়ে তিনি বাড়তি টাকা দাবি করছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্ল্যাট হস্তান্তরের বিষয়ে খোঁজ নিতে কপোতাক্ষ হোমসের অফিসে গেলে সুশান্ত ভৌমিক তার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
একই ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট মালিকরাও সুশান্ত ভৌমিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। ‘বি/৪-৫’ ফ্ল্যাটের মালিক প্রফেসর আব্দুর রহিম টাইমসকে জানান, চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা নিলেও এখনও ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। প্রতিষ্ঠানের এমডি সুশান্ত সবার সাথে খারাপ ব্যবহার, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও গালাগাল করেন। ‘বি/৬’ নম্বর ফ্ল্যাটের মালিক খাইরুল ইসলাম সুশান্ত ভৌমিককে বাটপার প্রকৃতির লোক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, টাকা নিয়েও তিনি রেজিস্ট্রেশন না দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করছেন। ‘বি/৮’ ফ্ল্যাটের মালিক রেজওয়ান কবীর জানান, সুশান্তের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। কবে নাগাদ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
প্রতারণার এই চিত্র শুধু বসুন্ধরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘বি/৭’ ফ্ল্যাটের মালিক মঞ্জুর মুর্শেদ জানান, ফার্মগেটের রাজাবাজারে কপোতাক্ষের আরেকটি প্রজেক্টেও একইভাবে টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন না দিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ‘বি/৯’ ফ্ল্যাটের মালিক দুবাই প্রবাসী সজিব বলেন, সুশান্ত অত্যন্ত ধুরন্ধর লোক; সব ফ্ল্যাটের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। সজিব জানান, তিনি ব্যাংকের মাধ্যমেই নিজের ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রোববার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার উম্মে কুলসুম সড়কে কপোতাক্ষ হোমসের কার্যালয়ে যান টাইমসের এই প্রতিবেদক। এসময় সুশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, গ্রাহকরা ঠিকমতো কিস্তি না দেওয়াতেই ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদকের কাছে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে ফ্ল্যাট মালিকদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল গালাগাল করেন সুশান্ত ভৌমিক। একই সাথে তিনি একজন পুলিশ সুপারের (এসপি) নাম উল্লেখ করে ভাটারা থানার ওসিকে ফোন দেন এবং ফ্ল্যাট মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি নথিভুক্ত করতে বলেন।


