সুন্দরবনে জলদস্যুদের পুঁতে রাখা অস্ত্র উদ্ধার করেছে এসআরবি-৬ (র্যাব)। সুন্দরবনের জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনী’র দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করার পর এসআরবি-৬-এর সদস্যরা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় টানা চিরুনি অভিযান চালিয়ে ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৩টি খালি কার্তুজ, সাতটি ওয়াকিটকি সেট ও ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করে। উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো তিন-চার মাস আগে বনের বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
সোমবার খুলনায় এসআরবি-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৬ খুলনার উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে বনের গভীরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। আত্মসমর্পণের পর একাধিক তথ্যের ভিত্তিতে বনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২ মার্চ থেকে কোস্ট গার্ড, এসআরবি, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। ৯ অক্টোবর আড় পাঙ্গাসিয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে আলিফ বাহিনীর দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, আত্মসমর্পণের সময় ওই সদস্যদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের গভীরে বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বনের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে অস্ত্রগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। এতে দুই দিন সময় লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের অনেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে কোন কোন থানায় মামলা রয়েছে, তা জানতেন না। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে।
আত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জলদস্যুদের অস্ত্র সরবরাহকারী, চাঁদা আদায় এবং জেলেদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তার ভাষ্য, সাতক্ষীরা, কয়রা, দাকোপ ও পটুয়াখালী এলাকার অস্ত্র সরবরাহকারীদের নাম-পরিচয়, যোগাযোগের নম্বর এবং অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু অপরাধ দমন করে না, অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তাও করে। সুন্দরবনের অন্য জলদস্যুদেরও অপরাধ ছেড়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান তিনি। তবে অপরাধ অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এসআরবির আশা, জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ফলে সুন্দরবনের বনজীবীদের নিরাপত্তা জোরদার হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও উপকূলীয় অর্থনীতি সুরক্ষায় এ অভিযান ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার


