ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে চারটি গরু আটকের পর বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এতে নিহত এক ব্যক্তিসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কড়ইতলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক রফিকুল ইসলাম হালুয়াঘাট থানায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন হালুয়াঘাটের সংগ্রা গ্রামের আতিকুল ইসলাম (৪০), বেতকুড়ি গ্রামের রোমান (৩৫) এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা গ্রামের আবদুল্লাহ (৩৫)। তাদের মধ্যে রোমান বিজিবির গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হালুয়াঘাট সীমান্তে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় সীমান্ত পিলার ১১১৯ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক হাজার গজ দূরে ঝলঝলিয়া এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে চারটি গরু আনার খবর পান বিজিবি সদস্যরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুগুলো আটক করেন তারা। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গরুগুলো নিয়ে ফেরার পথে ঝলঝলিয়া এলাকায় চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা বিজিবি সদস্যদের পথরোধ করেন। দেশীয় অস্ত্র, ধারালো রামদা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আটক চারটি গরুর মধ্যে দুটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুটি গরু বিজিবির হেফাজতে থাকে।
হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলক চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আবারও বিজিবি সদস্যদের ওপর আক্রমণ করেন। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে গুলি বের হয়ে রোমান নিহত হন। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে বিজিবি সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে হালুয়াঘাটের সাংবাদিক আনসারুল হক রাসেল ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে চোরাকারবারিদের প্রথমে বিজিবির ওপর হামলা করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ রোমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলছে।


