ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফেসবুকে জনতা ডেকে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফেসবুকে জনতা ডেকে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নিহত শামীম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভের মাধ্যমে মানুষ জড়ো করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসকের চেম্বার থেকে এবং পরবর্তীতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় তাকে বেধড়ক পিটুনি দেওয়া হয়। এতে মধ্যরাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বাসিন্দা এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে।

যে ব্যক্তি এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি গর্বভরে বলেছেন, ‘তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।’

তবে ভুক্তভোগী ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের পরিবার জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে শামীম মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে শামীমের বিরুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এনে মানুষ জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

এরপর কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারের সামনে আমিনীসহ একদল মানুষ জড়ো হন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা শামীমকে বের করে প্রথম দফায় গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধরা।

আমিনী বলেন, ‘প্রতিবেশী বা তার সঙ্গে কেউ কথা বললে ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলত। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।’

নিহতের ছোট ভাই সাগর হোসেন জানান, শামীম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি কামেল পাস করে পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তার দুটো সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে পড়েন।

সাগর বলেন, ‘মাঝে মধ্যে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। ওষুধপত্র খাচ্ছিলেন। তিনি যদি কিছু বলে থাকেন, তাহলে তাকে আইনের মাধমে বিচার করত। একটা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলল?’

ঘটনার সময় কাছে থাকলেও ভয়ে তারা শামীমকে উদ্ধার করতে যেতে পারেননি জানিয়ে আক্ষেপ করেন সাগর। বলেন, ‘গেলে আমাদেরও মারপিট করত।’

সাগর জানান, দুই দিন আগে শামীমের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়া হয়। সে সময় স্ত্রীর সঙ্গে তিনি যেসব কথা বলেছেন, আশপাশের কেউ রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দিয়ে মানুষদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

‘স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর বিষপান করে আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলেন শামীম। এরপর কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন ছিলেন,’ বলেন তিনি।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন বলেন, ‘৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যার আগে শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে কয়েক’শ মানুষ মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে আবার পিটুনি দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে পোঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad