‘সিসা দূষণ রোধে ব্যাটারি শিল্পে নতুন কাঠামো করছে সরকার’

‘সিসা দূষণ রোধে ব্যাটারি শিল্পে নতুন কাঠামো করছে সরকার’
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সিসা দূষণ রোধে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি শিল্পের পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) কাঠামো তৈরি করছে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বুধবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে পিওর আর্থ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা: সমাধানের সম্প্রসারণ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাটারি উৎপাদক ও আমদানিকারকদের দায়িত্ব নির্ধারণ, ব্যবহৃত ব্যাটারি নিরাপদে সংগ্রহ এবং পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ আইন মেনে চলার পাশাপাশি শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে।’

তিনি বলেন, সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় কৌশল ও বহুবর্ষমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩৫’ অনুমোদন করে। এতে দূষণের উৎস শনাক্তকরণ, পরিবেশগত নজরদারি, আইন প্রয়োগ, গবেষণা, জনসচেতনতা ও শিল্প খাতের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষিত এলাকার পুনর্বাসন ও নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ জোরদারের আহ্বান জানান পরিবেশমন্ত্রী। এ কাজে উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি খাতকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সিসা দূষণ প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রয়োজন।

সেমিনারে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশের জন্য জাতীয় যুব জোট’ চালু করা হয়। সিসা দূষণ নিয়ে সচেতনতামূলক চিত্রাঙ্কন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের সিসা শনাক্তকরণ সক্ষমতা বাড়াতে দুটি বহনযোগ্য এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (এক্সআরএফ) বিশ্লেষণযন্ত্রও হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে পিওর আর্থ বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আফতাব উজ জামান খান জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন ও খুলনার লবণচরা এলাকায় সিসা দূষণ প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থী শেখ সাজিদুল ইসলাম ব্যবহৃত ব্যাটারি নিরাপদে সংগ্রহ ও ফেরত দেওয়ার একটি উদ্যোগ উপস্থাপন করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad