পাবনা সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের বারবার অভিযানের পরও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা থামছে না। এতে চরম হুমকিতে পড়েছে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হেমায়েতপুর ইউনিয়নের দুটি পয়েন্টে দিন-রাত বড় বড় ড্রেজার চালিয়ে ৮০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাকে তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে ইটভাটা ও অন্যান্য ক্রেতাদের কাছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৭-৮ বছর ধরে টানা মাটি কাটার ফলে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গভীর খাদ। মাটি কাটার গর্ত বড় হতে হতে ইতিমধ্যে কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের বসতভিটা খাদের পেটে চলে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাউকে কোনোমতে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
ইসলামপুর গ্রামের শাওন প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাটি কাটা ও বিক্রির মূল অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাদের দাবি, প্রশাসন একাধিকবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলকে হাতে রেখে ঠিকই ড্রেজার চালিয়ে যাচ্ছে শাওন।
বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে এসে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার সব আগের মতো শুরু হয়ে যায়।
একইভাবে কাছেই আরেক ব্যক্তি দিন-রাত ড্রেজার চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বন্ধে প্রশাসন কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
অব্যাহত মাটি কাটার কারণে বর্তমানে অন্তত একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে। বাড়ির ঠিক পাশেই গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় চারপাশের জমি নরম হয়ে গেছে। নতুন করে আবার মাটি কাটা হলে বাড়িটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে, পাশের ঘরবাড়িগুলোরও ক্ষতি হতে পারে।
কৃষকরাও তাদের ফসলি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা জানান, মাটি কাটার গর্তের পাশের জমিগুলোতে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চাষের জমিও কমে যাচ্ছে, আর ধসের ঝুঁকি তো আছেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বারবার অভিযোগ ও প্রশাসনিক অভিযানের পরও বছরের পর বছর ধরে এই অপকর্ম চলছে। তারা বলেন, প্রশাসন অভিযান চালালে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে। তারপর আবার ড্রেজার এনে সব শুরু করা হয়।
আগের অভিযানের পরও কীভাবে একই জায়গায় বারবার মাটি কাটা শুরু হয়, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা। নজরদারির অভাবেই অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে আর সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাওন প্রামাণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, এমনকি ক্ষুদেবার্তারও কোনো জবাব দেননি।
এ বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফুয়াদ হোসেন জানান, ওই এলাকায় আগেও অভিযান চালানো হয়েছে। নতুন করে মাটি কাটার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


