জলবায়ু ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সংসদীয় ককাসের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি

জলবায়ু ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সংসদীয় ককাসের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি
Advertisement
Advertisement

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে এ পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ সংসদীয় গ্রুপ ককাসের অনুষ্ঠানে এটি গঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা, নীতিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ককাসের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক একটি মানবিক গল্প। পরিবার থেকে দূরে থাকা একজন বাবার পরিশ্রম, ঝুঁকি নেওয়া একজন তরুণের স্বপ্ন, আর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিবারের বিনিয়োগ। রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির। মূল স্তম্ভ, কিন্তু অভিবাসনের প্রকৃত মানদণ্ড হওয়া উচিত সেই রেমিট্যান্স উপার্জনকারী মানুষদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই কারণেই নিরাপদ, ন্যায়সঙ্গত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

অভিবাসীদের দরকার সঠিক তথ্য, আন্তর্জাতিক চাহিদার সাথে মানানসই দক্ষতা, শোষণ থেকে সুরক্ষা এবং দেশে ফিরে আসার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা। রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পরিবারগুলোর জন্য এই উপার্জনকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত, বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। সেখানে এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো যানবাহনের ব্যবহারও বাড়ছে। এই এলাকার সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা দেখার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেন নেত্রকোনা ও হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।’

ককাসের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা, নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার প্রত্যাশা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার, সুরক্ষা এবং জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad