বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সোমবার সচিবালয় এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
এ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী একযোগে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে পাইলটিং কর্মসূচি পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ অর্থবছরে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রোক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে। এসব শ্রেণি হলো—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।
পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বরপ্রাপ্ত নারীপ্রধান পরিবারগুলো ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে। সব নারীপ্রধান পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; তবে ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সোমবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা জরিপের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৬১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে ইনপুট করা হবে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) রুম স্থাপনের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারীপ্রধান পরিবারকে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি সরকারি এজেন্ট ব্যাংকিং, বিকাশ, রকেট, উপায় ও ট্যাপের মতো পেমেন্ট সেবা এবং পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতা উত্তোলনের সুবিধা থাকবে।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।


