কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিজ্ঞান ভবনসংলগ্ন মাঠে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ২১তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ছাত্রদলের জবি শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রায় ২ হাজার ১০০ নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। নবীন শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পাঠ্যবিষয়ক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষা, এআই, রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।’ তরুণদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক কর্মবাজারেও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। তাই নিজেদের যোগ্যতা ও মেধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।


