সড়ক দুর্ঘটনায় নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খাইরুন নেছা (৯০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসে তার নাতনি জান্নাতুল ফাহিম ।
রোববার সন্ধ্যায় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খাইরুন নেছাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত খাইরুন নেছা উত্তর আলামপুর গ্রামের সুতা ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে সিলোনীয়া বাজার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সিলোনীয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়। নিহতের নাতনি জান্নাতুল ফাহিমও একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী। দুর্ঘটনার পর তাকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়। একপর্যায়ে নাতনির মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়েন ৯০ বছর বয়সী দাদি খাইরুন নেছা। তিনি অচেতন হয়ে ঘরে লুটিয়ে পড়েন।
এর কিছুক্ষণ পর জান্নাতুল ফাহিমকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পান স্বজনেরা। তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তারা জানতে পারেন, খাইরুন নেছা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে স্বপন মিয়া বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে তিনি সংসার চালান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিলোনীয়া বাজারে গিয়ে নিজের মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি কান্নাকাটি করে বাড়িতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এ খবর শুনে তার মা নাতনির শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেলেও মাকে হারাতে হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইফরাদ খন্দকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই খাইরুন নেছার মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে তীব্র মানসিক আঘাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


