প্রবাসের মাটিতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে বেগবান করতে নিয়মিত আয়োজন ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৬তম আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে সাহিত্য অনুরাগী ও লেখকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই আসরটি অনুষ্ঠিত হয়।
কবি শহীদ কাদরীর অনুপ্রেরণাকে সামনে রেখে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে একটি চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরির কাজ নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন অনুষ্ঠানের পরিচালক নীরা কাদরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মোবারক হোসেন খানের ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও তার পত্রাবলি’ বইটি নিয়ে আলোচনা করেন মমতাজ বেগম সুমি। বইটি কিংবদন্তি সংগীতগুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ও কর্মের একটি মূল্যবান দলিল। এতে তার ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মাধ্যমে তার চিন্তা, দর্শন ও মানবিক দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাস বুঝতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক, সংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর গ্রন্থ।
এরপর কবি ও সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ মহিবুর রহমান আলোচনা করেন তারাপদ রায়ের বিখ্যাত বই ‘কাণ্ডজ্ঞান’। বইটি রম্যরচনা, ব্যঙ্গ ও জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার এক অনন্য সমন্বয়। তারাপদ রায়ের সহজ-সরল অথচ তীক্ষ্ণ ভাষাশৈলী ও হাস্যরসের আড়ালে সমাজ ও মানুষের আচরণের গভীর বিশ্লেষণ বইটিতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
কবি ও লেখক মনিজা রহমান আলোচনা করেন রাহুল সাংকৃত্যায়নের কালজয়ী গ্রন্থ ‘ভলগা থেকে গঙ্গা’। মানবসভ্যতার দীর্ঘ বিবর্তনের এক অনন্য সাহিত্যিক উপস্থাপনা এই বই। ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও কল্পনার অপূর্ব সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থটি মানবজাতির অগ্রযাত্রা ও সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে পাঠককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
গবেষক ও লেখক ধনঞ্জয় সাহা আলোচনা করেন ফ্রিডরিখ নিটশে-এর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক গ্রন্থ ‘দাস স্পোক জারথুস্ট্রা’।
রূপকধর্মী ভাষায় মানুষ, নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও আত্মোন্নয়নের ভাবনাপ্রকাশের পাশাপাশি নিটশের বিখ্যাত ‘অতিমানব’ ধারণাটি এই বইয়ের অন্যতম প্রধান বিষয়, যা প্রচলিত মূল্যবোধকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।
সবশেষে কবি ও সাহিত্যিক এ বি এম সালেহউদ্দিন আলোচনা করেন আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন-এর ‘সূর্যোদয়ের দেশে’। বইটি ভ্রমণ, সংস্কৃতি ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার এক জীবন্ত বর্ণনা, যা পাঠককে নতুন দেশ ও সভ্যতা সম্পর্কে জানার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে লেখক আহমেদ মাযহার ও শৈবালসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


