পদত্যাগী সাহাবুদ্দিনের প্রশংসা স্পিকারের

পদত্যাগী সাহাবুদ্দিনের প্রশংসা স্পিকারের
জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রশংসা করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সংসদ ভবনে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সবসময়ই সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।’

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাহাবুদ্দিন। সোয়া এক বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে চাপে পড়েন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাকে অপসারণের দাবির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেন। গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চম মাসে হঠাৎ করেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে।

সেই গুঞ্জনের দুই দিনের মাথায় শুক্রবার লিখিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পাঠিয়ে দেন সাহাবুদ্দিন। স্পিকারও এদিন তার বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরেন। জানান, তার পক্ষে এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

আরও পড়ুন

স্পিকার বলেন, পদত্যাগপত্রটি এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এটি রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিদায়ী রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন। এ ছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে।’
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রাষ্ট্রপতির ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামে একটি রোগ শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে স্পিকার আরও বলেন, ‘এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝেই অচেতন হয়ে পড়েন। এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।’

দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি, যাতে প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পালন করা যায়।’

একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথ নেওয়ার সময় একটি অংশ থাকে, যেখানে বলা হয়, স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকলে ডেপুটি স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন, বলেন তিনি।

আরেক প্রশ্নে স্পিকার বলেন, ‘আজকে দেশে নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুর থেকেই শুনছি। তবে প্রকৃত সত্য হলো, তিনি শারীরিক অসামর্থ্যের কারণেই পদত্যাগ করেছেন। আমি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad