১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসরে প্রথম দুই ম্যাচে এসেছিল জয়। তারপর থেকে বিশ্বকাপে টানা জয়ের দেখা আর কিছুতেই মিলছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। অবশেষে ঘরের মাঠে ফুরাল সেই ৯৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল।
সিয়াটলে শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া মার্কিনরা এই জয়ে দুই ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে। সমান ম্যাচে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া অস্ট্রেলিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুই নম্বরে।
চোটের কারণে এই ম্যাচে তারকা উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাঠে তার অভাব বুঝতেই দেননি সতীর্থরা। পুরো ম্যাচে ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখে আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের একাদশ মিনিটে ভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারান বালোগানের বাড়িয়ে দেওয়া পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস। এই নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল হলো সাতটি। এর চেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল কেবল ২০১৮ সালের রাশিয়া আসরে, মোট ১২টি।
পিছিয়ে পড়েও বল দখলে রেখে আক্রমণ চালিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৩তম মিনিটে আসে সেই ঘটনাবহুল দ্বিতীয় গোল। সতীর্থের ফ্রি-কিক বক্সের বাইরে পেয়ে জোরালো শট নেন সের্জিনো দেস্ত। অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল শূন্যে ভেসে উঠলে ছুটে গিয়ে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। শুরুতে রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজালেও লম্বা সময় ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলের সিদ্ধান্ত দিলে বাঁধভাঙা উদযাপনে মেতে ওঠে স্বাগতিক সমর্থকেরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন বালোগান। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে একাই এগিয়ে গেলেও শট নিতে দেরি করায় এক ডিফেন্ডার তা প্রতিহত করেন। অন্যদিকে ৬২তম মিনিটে ম্যাচে ফেরার সেরা সুযোগটি নষ্ট করে অস্ট্রেলিয়া। বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও তা পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ক্রিস্টিয়ান ভলপাটো। একটু পর বক্সের বাইরে থেকে কনর মেটকাল্ফের নেওয়া দুর্বল শট সহজেই লুফে নেন মার্কিন গোলরক্ষক।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে দেখা যায় এক বিরল দৃশ্য। আচমকা ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হয়ে মাঠে পড়ে যান মূল রেফারি। তাকে সাহায্য করতে দ্রুত এগিয়ে আসেন লাইন্সম্যান ও দুই দলের খেলোয়াড়েরা। চতুর্থ রেফারি পানীয় নিয়ে ছুটে আসেন মাঠে। প্রাথমিক সেবা নিয়ে একটু পর রেফারি উঠে দাঁড়িয়ে খেলা শেষ করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।


